ভারতে নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য দোয়া, আখেরী মোনাজাতে সমাপ্ত চরমোনাই মাহফিল ||amarkhobor24 - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Friday, February 28, 2020

ভারতে নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য দোয়া, আখেরী মোনাজাতে সমাপ্ত চরমোনাই মাহফিল ||amarkhobor24

বিশেষ প্রতিবেদক / ও পারভেজ হোসাইন, ময়দান থেকে -      

ভারতের হিন্দুত্ববাদী দল ও গোষ্ঠী কতৃক দেশটিতে মুসলমানদের ওপর জুলুম অত্যাচার-নির্যাতন হত্যা বন্ধে এবং  মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়েছে।  শনিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী সকালে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী চরমোনাইর ফাল্গুনের বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল সমাপ্ত হয়েছে। লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে মাহফিলের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন ইসলামী আন্দোল বাংলাদেশের আমীর  মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই । কীর্তনখোলা নদীর তীরে লাখো মুসল্লী মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় অশ্রুসিক্ত লাখ কোটি মুসল্লি পরম করুনাময় আল্লাহর দরবারে পানাহ চেয়ে আহাজারি করেন।  আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে গোটা চরমোনাই এলাকা জনসমুদ্র রুপ ধারণ করে।   খোলা মাঠ,  পথেঘাটে, এবং যানবাহনে ও লঞ্চের ছাদে মুসল্লীরা অবস্থান নেন।  এ বছর মাহফিলে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।  মাঠেই জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।  
এর আগে ফজরের নামাজের পর চরমোনাই পীর মাহফিলে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের উদ্দেশে হেদায়েতি বয়ান পেশ করেন। বয়ানে পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের প্রস্তুতির নসিহত করে বলেন, এ দুনিয়া থাকার জায়গা না। তাই কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি দুনিয়ার মোহে পড়তে পারে না। আখেরি মোনাজাত পূর্বক ফজর বাদ শেষ বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, হেদায়েত হলো মানুষের জন্য সর্বোত্তম নেয়ামত। এ জন্যই হেদায়েত নামক অমূল্য সম্পদটি আল্লাহপাক তার নিজের হাতে রেখেছেন। এ সম্পদটি তিনি বান্দাকে নিজ হাতে দিতে চান। তবে এ জন্য আমাদের শুধু মাওলার কাছে চাইতে হবে। মন থেকে কেউ হেদায়েত চাইলে আল্লাহপাক অবশ্যই তাকে হেদায়েত দিয়েই দেবেন। এ জন্য বেশি বেশি হেদায়েত চাইতে হবে। তিনি আরো বলেন, দুনিয়া হলো আখেরাতের কামাইয়ের জায়গা।' 

এ সময় বিশিষ্ট আলেম ওলামা, দলীয় নেতৃবৃন্দ,  এবং বরিশালের সরকারি বেসরকারি   বিভিন্ন বিভাগের   বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।      

আখেরি মোনাজাত শেষে  পীর সাহেব সবাইকে  বিদায় জানান। এরপরেই সড়ক ও নৌপথে হাজারো  যানবাহনে মুসল্লিদের ঘরে ফেরা শুরু হয়। চরমোনাই মাহফিলের মুসল্লিদের বহনকারী যানবাহনের নিরাপদ চলাচলে বরিশাল মহানগর পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকামুখি মুসল্লিবাহী বাসগুলো বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা,বরিশাল-খুলনা, বরিশাল-ভোলা ও বরিশাল-পটুয়াখালী-বরগুনা মহাসড়ক ধরে যাচ্ছিল। বিপুল সংখ্যক নৌযানেও চরমোনাই থেকে মুসল্লিরা ঘরে ফিরছিলেন।

এর আগে গত বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারী  বাদ জোহর পীর সাহেবের উদ্বোধনী বয়ানের মধ্যে দিয়ে চরমোনাই এবারের ফাল্গুনের বার্ষিক মাহফিলের সূচনা হয়। মাহফিলকে কেন্দ্র করে বরিশাল মহানগরী থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কির্তনখোলা নদী তীরের চরমোনাই একটি নগরীর রূপ নেয়। গত সোমবার  থেকেই লাখ কোটি মুসল্লি সড়ক ও নৌপথে চরমোনাই পৌঁছতে শুরু করেন। 
উল্লেখ্য, বরিশালে চরমোনাইর বছরে দুটি মাহফিলের মধ্যে ফাল্গুন মাসের মাহফিলটি বেশি গুরত্বপূর্ণ হিসাবে গণ্য করা হয়। প্রতিবার মাহফিলে ৫টি মাঠ থাকলেও মুসল্লি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার আরও একটি নতুন মাঠ করা হয়েছে। তবে এবার অতীত রেকর্ড ছাড়িয়ে ব্যাপক উপস্থিতি হয় মুসল্লীর।

No comments:

Post a Comment

Pages