বই মেলায় নামাজ আদায়, বামপন্থীদের গাত্রদাহ বনাম করণীয় ||amarkhobor24 - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Sunday, February 23, 2020

বই মেলায় নামাজ আদায়, বামপন্থীদের গাত্রদাহ বনাম করণীয় ||amarkhobor24


গত একুশে ফেব্রুয়ারি রোজ শুক্রবার অমর একুশে বই মেলায় নতুন বই' চেইঞ্জ ইউর মাইন্ড,এর মোড়ক উন্মোচন করেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান ও জনপ্রিয় আলেম,ইসলামী চিন্তাবিদ,  গবেষক ও কলামিষ্ট  মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ।তাঁর বই ক্রয় করতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়ে টনক নড়ে বাংলা একাডেমি কতৃপক্ষের।স্টলে অতিরিক্ত ভীড় দেখে প্রকাশককে একে একে তিন বার ডেকে পাঠান।লেখক মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ এর অটোগ্রাফ নিতে ভক্তদের ভীড় ছিল উল্লেখ করার মত।মাগরিবের নামাজের উক্ত হলে বরাদ্দকৃত জায়গায় নামাজের জায়গা সংকুলান না হলে মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ অনত্র নামাজে দাঁড়িয়ে গেলে তাঁর ইমামতিতে শতাধিক লোক নামাজে শরিক হন।নামাজ চলাকালীন, আগে নামাজ আদায় করে নেওয়াদের মধ্য থেকে নামাজের ছবি তুলে।তা ফেইসবুকে দিলে মুহুর্তেই ছড়িয়ে পরে সর্বত্র।এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলতে থাকে যুক্তি তর্ক।ইসলাম পন্থীদের কাছে হিরো বনে যায় মুফতি হাবিবুর রহমান  মিসবাহ। ফেইসবুকে সবাই তাঁর প্রশংসায় প্রঞ্চমুখ। 

অপরিদকে বামপাড়ায় হৈ চৈ শুরু হয়।বামপন্থীদের অনেকে হতাশ হয়ে বলেন, তাদের চোখের সামনে প্রাণের বই মেলা মোল্লাদের হাতে চলে যাচ্ছে।অথচ বাংলা একাডেমির শুরুর দিকে পরিচালক ছিলেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ,আকরাম খান,ডক্টর মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ। যারা ছিলেন খাঁটি দেশপ্রেমিক ও ডানপন্থী। বই মেলায় আলেম, ওলামা দাড়ি টুপি ওয়ালাদের আনাগোনা বামপাড়ায়ও জ্বালাপোড়া শুরু হয়ে গেছে।ইসলামীক  প্রকাশনার স্টল দিতে বিধিনিষেধ থাকা স্বর্থেও দিন দিন আলেমদের বই প্রকাশ ও পাঠকপ্রিয়তায় দুঃচিন্তায় পড়েছে বামপন্থীরা।বিশেষ করে আরিফ আজাদের বই যেভাবে পাঠকপ্রিয়তা পাচ্ছে তাতে বুঝা যাচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ট পাঠক ইসলামী বই পড়তে আগ্রহী।ধীরে ধীরে বদলে যাবে অমর একুশে বই মেলার দৃশ্য।আগামীতে প্রত্যেক স্টলে থাকবে  পর্যাপ্ত পরিমাণে ইসলামী বই পুস্তক।পাল্টে যাবে দৃশ্য,পাল্টে যাবে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও।অমর একুশে বই মেলায় নামাজ আদায়কে ভালোভাবে নেয়নি বিতর্কিত ও নির্বাসিত ইসলাম বিদ্বেষী লেখিকা তসলিমা নাসরিন।তিনি মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহর নামাজ  আদায়কে রাজনৈতিক নামাজ বলেও উল্লেখ করেন।টুইট করার পর তসলিমা নাসরিন ফেইসবুকে মনের ক্ষোভে বলেন,পুরো বাংলাদেশ দখল করে নিলো, বই মেলা দখল করা কোন ব্যাপার হইল? তসলিমা নাসরিন কে সবাই নাস্তিক বললেও আমি তাকে নাস্তিক বলিনা।তিনি কখন হিন্দু ধর্মের বিধি বিধান নিয়ে আপত্তি  করেনি।শুধু আপত্তি ইসলাম ও ইসলামের বিধিবিধান নিয়ে।কয়েক মাস আগে তসলিমা নাসরিন হিন্দুদের শিব লিঙ্গে পানি ঢালার ছবি নিজ ফেইসুবক পেইজ পোস্ট করেন।সুতরাং তসলিমা নাস্তিক নয়, চরম ইসলাম বিদ্বেষী ও হিন্দুত্ববাদী ।

একুশে ফেব্রুয়ারি আরো একটি বিষয় নিয়ে বামপন্থীরা বেশ উষ্মা প্রকাশ করেছে তা হলো শহিদ মিনারে ইশা ছাত্র আন্দোলনের নামাজ আদায় ও খতমে কোরআনের দৃশ্য দেখে।ইশা ছাত্র আন্দোলনের দেশব্যাপি বর্ণমালা মিছিল,ভাষা শহিদদের স্বজনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খুঁজ খবর নেওয়া এবং তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষাতকার নিয়ে তা প্রচার করার মত বেশ কিছু মহৎ ও সৃজনশীল কর্মসূচি পালন করেছে।এই কারণেও বামপন্থীদের গাত্রদাহ বাড়ছে।এক সময় বই মেলায় কোন আলেমের দেখা মিলত না।কিন্তু এখন পাল্টে গেছে সেই সময়। এখন বই মেলায় দাড়ি টুপি ওয়ালাদের ভীড় দেখা যায়।বাংলা একাডেমির বৈষম্যনীতির কারণে কোন ইসলামী প্রকাশনার স্টল দিতে পারেনা।এটা অসম্প্রাদায়িক চেতনার বাংলাদেশে সাম্পদায়িক আচরণ।
#ইসলামপন্থীদের করণীয়
১) একুশে বই মেলায় চিন্তক আলেমদের আনাগোনা বাড়ানো
২) ইসলামী ঘরানা লেখকদের বই ক্রয় করে উৎসাহিত করা
৩) কওমী ছাত্র শিক্ষক যারা বই মেলায় যাবে অন্তত একটি করে বই ক্রয় করা
৪)প্রত্যেক স্টল ঘুরে নাস্তিক ও বামপন্থী লেখকদের বই গুলো পর্যাবেক্ষণ করা
৫) চিন্তাশীল অালেমদের বই প্রকাশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা
৬) ইসলাম পন্থীদের বই পড়া আর লেখালেখি কে উৎসাহিত করা
৭)তরুণ লেখক যারা ইসলামের পক্ষে লেখালেখি করে ইসলামপন্থীদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো ও উৎসাহ প্রদান করা
৮) জনপ্রিয় ওয়ায়েজদের উচিত অমর একুশে বই মেলা পরিদর্শনে আসা
৯) ইসলামীক ফাউন্ডেশনের বই মেলাকেও  গুরুত্ব দেওয়া
১০) ইসলামপন্থী লেখকদের একত্রিত করে ফোরাম গঠন ও সাহিত্য কর্মশালার মাধ্যমে ইসলামপন্থী তরুণ ও ছাত্র সমাজকে সাহিত্যের প্রতি উৎসাহিত করা।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages