৩৫ দলের বিপক্ষে একাই ভোটে লড়বে 'হাতপাখা' - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Sunday, January 19, 2020

৩৫ দলের বিপক্ষে একাই ভোটে লড়বে 'হাতপাখা'

বিশেষ সংবাদদাতা,আমার খবর:
ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি।। এ নির্বাচনে  বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়াও নির্বাচনী মাঠে থাকবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ,  জাতীয় পার্টিসহ আরো কিছু দল। আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী দিলেও তাদের পিছনে রয়েছে  ১৪ দলীয় জোট ।  বিএনপির সাথে আছে জামাতসহ  ২০ দলীয় জোট ও ঐক্য ফ্রন্ট।  অন্যান দল মিলিয়ে  ৩৫ দল।বিপরীতে কারও জোটে না গিয়ে  সবসময় একক নিজের শক্তিতে চলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবারও হাতপাখা প্রতিকে একাই লড়বে ভোটে।        
এদিকে নির্বাচনে বেশ আত্মবিশ্বাসী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বলেন,  “গতবার যদি ফেয়ার ইলেকশন হতো আমার শতভাগ আত্মবিশ্বাস আমি বিজয়ী হতাম। “মেয়র হওয়ার পর আমার প্রধান লক্ষ্য থাকবে নগরীর জনদুর্ভোগ কমানো। বর্তমান মেয়রের অদক্ষতা ইতিমধ্যে নগর ও দেশবাসীর সামনে উন্মোচিত হয়েছে। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে যানজট মুক্ত, পরিবেশবান্ধব ঢাকা উপহার দিব দক্ষিণের নগরবাসীকে।” 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত ঢাকা উওর সিটি মেয়র পদপ্রার্থী শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, “গত ৩০ শে ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার ব্যালটের মাধ্যমেও ভোট ডাকাতি করতে সক্ষম হয়েছে। এবার যেহেতু ইভিএমে নির্বাচন হবার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন তাই আমাদের শঙ্কা আরো বেড়ে গেল।”  তিনি বলেন, তবে নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে আগামী নগর ভবনের দায়িত্ব পাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন। নগর ভবনের দায়িত্ব ইসলামী আন্দোলনের কাঁধে আসলে প্রথমেই আমরা দুর্নীতিমুক্ত নগর ভবন গড়বো। এছাড়াও যানজট মুক্ত শহর, পরিচ্ছন্ন নগরী এবং নারীবান্ধব ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে কাজ করবো।”

বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক 
ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম খলিল ফেইসবুকে তার মতামতে লিখেন তার  অংশবিশেষ দেয়া হল।    "ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ডেট চেঞ্জ হয়েছে, আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। উত্তরে ও দক্ষিণে মেয়র নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে একমাত্র হাতপাখা প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে। এটি আমাদের জন্য খুশীর খবর। ইসলাম সবার জন্যই, ইসলামের বিজয় হোক এটা আমরা সবাই চাই।  আপনি যদি মুসলমান হোন তাহলে ইসলামের পক্ষের শক্তিকেই সাপোর্ট করবেন, ইসলাম তাই বলে। বিশেষ করে আপনি যদি কোন ইসলামী দলের কর্মী হয়ে থাকেন, তাহলে হাতপাখাতেই ভোট দিতে হবে, কারণ আপনার দলের কোন প্রার্থী নাই। আপনি অন্য দল করেনও আপত্তি নাই, কিন্তু ইসলামের বিজয়ের জন্যইতো দল করেন, আপনার দলের প্রার্থী যেহেতু নাই, সেহেতু ভোটের মত পবিত্র আমানতকে তো নষ্ট করতে দেওয়া যাবেনা। আপনাকে ইসলামের পক্ষেই ভোট দিতে হবে।
আমি হিসেব করে দেখলাম, এবারই উত্তরে ও দক্ষিণে ইসলামের পক্ষের মেয়র জিতবে। কিভাবে? চলুন একটু হিসেব করি। 

ঢাকা শহরে মসজিদ কতটি? 
ইমাম ও মুয়াজ্জিন কতজন? 
তাদের পরিবারে ভোটার কতজন?  
মোট মাদ্রাসা কতটি?
তাদের শিক্ষক ছাত্র স্টাফ কতজন?
ইসলামী দল কয়টা?
তাদের নেতা কর্মী কতজন?
বক্তা ওয়ায়েজ কতজন?
তাদের পরিবারের সদস্য কতজন?
পীর মাশায়েখ কতজন?
তাদের পরিবার ও ভক্তের সংখ্যা কতজন?
তাবলীগের মার্কাজ কতটি?
সেখানে তাদের সাথী সংখ্যা কতজন? 
তাদের পরিবারে সদস্য সংখ্যা কতজন? 

এই মুহূর্তে সবগুলোর সংখ্যা বলতে পারছিনা, কিন্তু আপনি হিসেব করেন, উপরের সবাই তো ইসলাম নিয়েই কাজ করে। ইসলাম প্রতিষ্ঠা হোক সকলেই চায়, এই চাওয়া নিয়ে তো একেকজন একেকভাবে ইসলামের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। তাহলে ইসলামের পক্ষের প্রার্থী কেন জিতবেনা? কেন জয় আসবেনা?

ইমাম, মুয়াজ্জিন, মুহতামীম, মুয়াল্লিম, শায়খুল হাদীস, পীর মাশায়েখ, ইসলামী দলের নেতা কর্মী, বক্তা ও তাদের ভক্তবৃন্দ, তাবলীগের মুরুব্বীগণ, সকলেই যদি সকলের জায়গা হতে একটু আওয়াজ তুলে, এবারের ভোট কোন চোর বাটপারকে নয়, ইসলামের পক্ষে হাতপাখাকে দিব, তাহলে ভোটের বিপ্লবে অবস্থা কই গিয়ে দাঁড়াবে? আর কারো দরকার নাই, শুধু ইসলাম নিয়ে যারা কাজ করে তারা যদি আওয়াজ তুলে এবারই উত্তরে ও দক্ষিণে ইসলামের পতাকা উড্ডীন হবে। 

আমরা একবার সবাই মিলে আওয়াজ তুলেই দেখিনা, ভোট চোরেরা কয়টা ভোট চুরি করবে? আমরা একবার ইসলামের পক্ষের শক্তিকে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেই দেখিনা? জিতলে কার লাভ? ইসলামেরই তো লাভ হবে, মসজিদ মাদ্রাসা মার্কাজের উন্নতি হবে, জনগণেরই তো লাভ হবে, গর্ব করে বলতে পারবো এবার ইসলামী পক্ষের শক্তি পাশ করেছে। মেয়র দিয়েই শুরু হোক, আগামীতে এর সুফল আমরা জাতীয় নির্বাচনে বাস্তবায়ন করব। এবারের নির্বাচনে যদি আমরা মেয়র প্রার্থীদের জিতিয়ে আনতে পারি, পরে সকল ইসলামী দল ও ইসলাম নিয়ে যারা কাজ করি, তারা সবাই একটি প্লাটফর্ম তৈরি করে সম্মিলিত আসন ভাগ করে যদি ঘোষণা দিই, আমরা হুজুররা সবাই এক ও নেক হয়ে গেলাম, 
এভাবেই সবাই সবার জায়গা হতে যদি আওয়াজ তুলি কেন হবেনা? ওরা পালাতে দিশা পাবেনা? কয়টা চুরি করবে? ঢাকায় ইজতেমার ময়দানে যদি পা ফেলানোর জায়গা না পাওয়া যায়, মাহফিলে লক্ষ লক্ষ লোক হয়। তাবলীগ ভাইয়েরা প্রকাশ্যে কিছু না বলুক, কানে কানে তাদের সকলের কাছে ম্যাসেজটি পৌঁছে দিক, এবারের ভোট হবে হাতপাখায়। 

এটাই বাস্তবতা, হাতপাখা জিতবেই, আর একবার জিতে নগরের চেহারা পাল্টাতে পারলে আগামীতে পিছনে ফিরে তাকাতে হবেনা। জাতীয় নির্বাচনে চুরি চামারি করে ক্ষমতা দখল করে দেশ চালাতে কেউই পারবেনা।  উল্লেখ করেন মি. খলিল।  
এদিকে,নির্বাচন কেমন হবে, ইভিএম প্রয়োগ হবে নাকি ব্যালটে আস্থা রাখবে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশন তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবেন তো!, আগামী দিনে নগরপিতা হচ্ছেন কারা -এসকল প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে আগামী.পহেলা ফেব্রুয়ারি। জনগণের নির্বাচিত প্রার্থীই নেতৃত্ব দিবে আগামীদিনের ঢাকাকে -এই প্রত্যাশা নগরবাসীর।

No comments:

Post a Comment

Pages