দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাইলে সমাজ পাল্টিয়া যাইবে ||নুর আহমদ সিদ্দিকী ||amarkhobor24.com - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Thursday, January 23, 2020

দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাইলে সমাজ পাল্টিয়া যাইবে ||নুর আহমদ সিদ্দিকী ||amarkhobor24.com


আজ আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমন হইয়া দাঁড়িয়েছে মানবতা যেন নির্বাসনে।আত্মকেন্দ্রীকতা আমাদের আচ্ছন্ন করিয়া রাখিয়াছে।এহন পরিস্থিতিতে মানুষের মাঝে পশুর আচরণ পরিলক্ষিত হইতেছে।নিজেদের লাভ বুঝিলেও অন্যের ক্ষতি কামনা করিবার মানুষের অাধিক্য দৃশমান।পরনিন্দা, পরচর্চা আর হিংসায় সমাজ ভরিয়া গিয়াছে।ডিগ্রীধারী শিক্ষিত মানুষের আচরণ মূর্খের ন্যায় হইয়া গিয়াছে।চারদিকে ফুলের সুবাস নাহি। রহিয়াছে হায়ানেদের উল্লাস।রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হইতেছে নীরহ জনতা।শাসনভার গিয়াছে মূর্খদের হাতে।শিক্ষিত সমাজ হইতেছে লাঞ্চিত ও বঞ্চিত।কতেক মানুষ শিক্ষিত হইয়াছে বটে মানুষ হইতে পারে নাই।তাহাদের কেউ মানুষ বলিলেও আমি তাহাদের মানুষরূপী শিক্ষিত শয়তান বলিয়া অবিহিত করিয়া থাকি।তাহাদের হাটিতে, বসিতে চিন্তা খাওয়া আর বাঁচিবার।তাহারা সমাজের  সাধারণ শ্রমজীবি মানুষদের মানুষ বলিয়া মনে করিতে চাহে না।
তাঁতি, কামার, কুমার, রিক্সাওয়ালাসহ শ্রমজীবী মানুষদের সাথে পশুর ন্যায় আচরণ করিতেও দ্বিধা করেনা।ঐ শিক্ষিত মানুষরূপী হায়েনাদের কে লক্ষ্য করিয়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কুলি মজুর কবিতাটি রচনা করিয়াছিল।--

দেখনি সেদিন রেলে? 
কুলি বলে এক বাবু সাব তারে 
ঠেলে দিল নিচে ফেলে
চোখ ফেটে এল জল
এমনি করে জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?
যে দধীচিদের হাড় দিয়া বাষ্পি শকট চলে
বাবুসাব এসে তাহাতে চড়িল
কুলিরা পড়িল নিচে
বেতন দিয়াছ?  চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল।

 পৃথিবীর সূচনালগ্ন হইতে দুটি শ্রেণির মধ্যে সংগ্রাম চলিতেছে।যাকে দার্শনিক কালমার্কস শ্রেণি সংগ্রাম বলিয়া অবিহিত করিয়াছে।
এক. প্রভূ শ্রেণি দুই.শ্রমিক শ্রেণি।প্রভু শ্রেণি চাহে শ্রমিক শ্রেণির উপর কতৃত্ব করিতে, তাহাদের কথায় সমাজ পরিচালিত হোক সেটাই তাহাদের বাসনা।এই কারণে শ্রমিক শ্রেণি হইতেছে শোষিত, বঞ্চিত ও লাঞ্চিত।মালিক শ্রমিকের এই দ্বন্ধ হইতে শ্রেণি সংগ্রামের জন্ম হইয়াছে।

নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে আজ মানবতা হারিয়া গিয়াছে।আমরা রাস্তা ঘাটে চলিতে দেখিয়াছি শিক্ষিত মানুষের আচরণ।বাবার বয়সী একজন রিক্সাওয়ালাকে এই রিক্সা যাবি বলিয়া সম্মোধন করিয়া থাকে।অথচ রিক্সাচালক তাহাদের বলে আপনি কোথায় যাইবেন? মূর্খ অশিক্ষিত রিক্সাচালকের ভাষা আর শিক্ষিত মানুষের ভাষার মধ্যে এমন তফাৎ হইলে চিন্তা করিয়া দেখিবার সময় আসিয়াছে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার কি পরিণতি। অনেক ধনী লোক বাজারে গিইয়া গরীব বৃদ্ধ লোকদের সহিত একেবারে পশুসুলভ আচরণ করিয়া থাকে।পরিবারের খরচ যোগান দিবার তাগিদে যে বৃদ্ধ লোক অল্প শাক সবজি, ফল মূল নিয়ে বাজারে আসিয়াছে আমরা ঐ বৃদ্ধ লোকটির কাছ হইতে ক্রয় করিতে চাহিনা।যদি ক্রয় করি তাহা হইলে দরকষাকষি করিয়া থাকি।অথচ আমাদের উচিত কিছু টাকা বেশি দিইয়া হইলেও ঐ বৃদ্ধ গরিব লোকদের মাল গুলো ক্রয় করিয়া নেওয়া।আমরা সেটা না করিয়া দরকষাকষি করিতে থাকি।আমরা যখন নামকরা কোন শফিংমলে জিনিস পত্র ক্রয় করিতে যাই তখন এত দরকষাকষি করিয়া নিজেদের আত্ম সম্মান নষ্ট করিনা।পাঁশত টাকার কাপড় একহাজার টাকা বলিলেও দরাদরি না করিয়া ক্রয় করিয়া লই।এক দামের জিনিস দরকষাকষি করিলে সম্মানে অাঘাত লাগিবে এই ভয়ে   দরকষাকষি করিতে চাহে না।রাস্তায় হাটিতে গেলে অনেত মানুষরূপী জানোয়ারের দেখা মিলে যাহাদের দুটি পা রহিয়াছে।বাহ্যিকতায় তাহাদের মানুষ মনে হইবে কিন্তু এদের আচরণে প্রমাণ পাইবেন তাহারা মানুষরূপী শয়তান।অন্যের মা বোনদের তাহারা" মাল" বলিয়া সম্মোধন করিয়া থাকে।অথচ তাহারা চিন্তা করিতে চাহেনা রাস্তা ঘাটে যেসব মেয়ে চলাচল করিয়া থাকে তাহারা কাহারো না কাহারো মা,বোন বা স্ত্রী।সেই একই রকম মেয়ে আপনার ঘরে রহিয়াছে যাহারা আপনার বোন,স্ত্রী বা মা।তাহলে অন্যের বোন,স্ত্রীর বা মায়ের প্রতি কেন এমন দৃষ্টিভঙ্গি?? আমাদের সমাজে প্রচলিত রহিয়াছে শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার কথা ভাবিয়া ইসলামীক স্কলার মুফতি ফয়জুল করিম বলিতে বাধ্য হইয়াছে, শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড নহে বরং সুশিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড।সমাজে প্রতিষ্টিত শিক্ষিত ব্যক্তিদের মা বাবারা আজিকে বৃদ্ধাশ্রামে ধুঁকে ধুঁকে মরিতেছে।তাহাহইলে শিক্ষিত হইলে চলিবে না বরং সুশিক্ষিত হইতে হবে।সুতরাং একথা প্রমাণিত যে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাইলে সমাজ পাল্টিয়া যাইবে।

নুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages