জামায়াতের স্ববিরোধী আচরণ - পর্ব-০০১ || নুর আহমেদ সিদ্দিকী ||amarkhobor24 - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Thursday, January 16, 2020

জামায়াতের স্ববিরোধী আচরণ - পর্ব-০০১ || নুর আহমেদ সিদ্দিকী ||amarkhobor24

নিজস্ব প্রতিবেদকঃঃ জামায়াতের আচরণ মূলত স্ববিরোধী।কারণ তারা প্রচার করে ইসলামে পীর বলতে কিছুই নেই অথচ তারাই পীরকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করে চলছে।গত বছর তথা ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম লালদিঘী ময়দানে গারাংঙ্গিয়া দরবারের যে মাহফিল হয়েছে তার সফলতার মূলে রয়েছে জামাত শিবির।আমি শহরের অলি গলিতে পরিচিত শিবির নেতা কর্মীকে ব্যানার পোস্টার লাগাতে দেখেছি।আমার জীবনে গারাংঙ্গিয়া পীরের মাহফিলের এতটা প্রচারণা দেখিনি।গ্রাম থেকে শহরে ব্যানার পোস্টার ছিল চোখে পড়ার মত।আমার পরিচিতদের জামায়াতের অনেক রোকন গারাংঙ্গিয়া পীরের দরবারে যায় এবং প্রচার করে।তাহলে তারা যে ইসলামে পীর নেই বলে তা আইওয়াশ মাত্র।তার মানে তাদের ক্ষেত্রে সব ঠিক।হক্কানি পীর তাদের পছন্দ নয় সে কারণে ইসলামে পীর নেই বলে অপপ্রচার করে।
এবার আসুন চট্টগ্রাম বাঁশখালীতে তাদের জামায়াতের পীর মাওলানা ইসহাকের সাহেবের কথায়।কথিত আছে তিনি ছাড় ফুঁকের পীর।জামায়াত শিবিরের পোলাপাইন পরীক্ষার আগে বাঁশখালীর পীর ইসহাক সাহেবের কাছে দৌঁড় দেয় কলম পড়িয়ে আনতে।সাতকানিয়া, লোহাগাড়া থেকে জামাত শিবিরের পোলাপাইন ও তাদের মা বোনদের নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে ইসহাক সাহেবের দরবারে।পানি পড়িয়ে আনতে যায়,কেউ বা যায় বিভিন্ন তদবিরের নিয়তে।এটাকে পীর পূজা বলে না সহজ ভাষায় পীর মুরিদি ব্যবসা বলে।ইহাসক হুজুরের সন্তান মাওলানা জহিরুল ইসলাম বাবার পানি পড়ার কারণে বাঁশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগের কিছু নেতারও সহযোগিতা ছিল।বাঁশখালীর মাওলানা ইসহাক সাহেব ও গারাংঙ্গিয়ার পীর সাহেবের কাছে যারা যায় তাদের ৯০% জামায়াতের লোকজন।তারা যে বলে ইসলামে পীর নেই তা সম্পূর্ণ স্ববিরোধী আচরণ।তার মানে হল হক্কানি পীর মাশায়েখদের কাছ থেকে জনগন কে দূরে সরিয়ে রাখার কৌশল অবলম্বর হিসেবে এটা প্রচার করে থাকে।

তারা  ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগের জোটে ছিলেন তখন পীর সাহেব চরমোনাই কে বিএনপির দালাল বলত। আর যখন ২০০১ সালে জামায়াত বিএনপির জোটে যোগ দেয় তখন পীর সাহেব চরমোনাই কে আওয়ামী লীগের দালাল বলে অপবাদ দেয়।আওয়ামী লীগ বিএনপির সরাসরি দালালি করেছে জামায়াত।নিজেদের দালালালি ঢাকতে অন্যকে দালাল বলার সংস্কৃতি এই জামায়াতই চালু করেছে।বিশ্বব্যাপি যারা সন্ত্রাসি তারা মুসলমানদের সন্ত্রাসি বলে নিজেদের সন্ত্রাসি কর্মকান্ড গোপন রাখতে।জামায়াতই তাদের নীতি অনুসরণ করছে।ক্ষমতার জন্য তারা যে কারো সাথে জোট করতে পারে।বিএনপির অধঃপতনের পেছনে জামায়াতই দায়ী।আল্লামা শফি,পীর সাহেব চরমোনাই ও হাফিজুর রহমান যখন হেলিকপ্টার নিয়ে মাহফিল যায় তখন জামায়াত শিবির কটাক্ক করে তাদের বলেছিল হেলিকপ্টার হুজুর।যখন আমির হামজা,তারেক মনোয়ার ও আজহারী হেলিকপ্টার নিয়ে মাহফিলে যায় তখন তারা হেলিকপ্টার হুজুর বলে কটাক্ক করেনা।তখন বলে হেলিকপ্টার নিয়ে মাহফিলে যাওয়া মানে এটা আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা।এটা কি স্ববিরোধীতা নয়??আজীবন রাজনৈতিকভাবে দালালি করতে করতে এখন নিজেদের চরিত্রই ভুলে গেছে জামাত শিবিরের ভাইগন।
আজহারীকে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চাইছে।তাদের নেতা কর্মীদের ভাষা এতটা রুচিহীন তা ভাবতেও অবাক লাগে।তাদের উগ্র ও বেয়াদব কর্মীদের কারণে আজ তাদের বিরুদ্ধে কলম ধরতে বাধ্য হচ্ছি আমরা।

লেখকঃনুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages