রামগঞ্জে ভাতার বই হাতে পেয়ে ভাতাভোগীর কান্না |amarkhobor24 - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Wednesday, January 8, 2020

রামগঞ্জে ভাতার বই হাতে পেয়ে ভাতাভোগীর কান্না |amarkhobor24

রামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বয়স্ক ভাতার বই হয়েছে শুনে খুশি হলাম, কিন্তু টাকা না দিলে বই হাতে পাওয়া যাবে না তাই মেম্বারের কথামতো ৪ হাজার টাকা দিয়ে বয়স্ক ভাতার বই হাতে নিয়ে খুশি মনে বাড়ি এসে দেখি বই থেকে গত এক বছরের ভাতার ৬ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে কথাগুলো বলতে ফ্যালফ্যাল করে কেঁদে ফেললেন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার লামচর ইউনিয়নের দক্ষিণ দাসপাড়া গ্রামের তেলিবাড়ীর বয়স্ক ভাতাভোগী ৮২ বছর বয়সী হতদরিদ্র আব্দুস সাত্তার।
জানা গেছে গত বছরের ২০ মার্চ উপজেলা সমাজসেবা অফিস কর্তৃক বয়স্ক ভাতার বই যার নম্বর ৭৬০৮ অনুমোদিত হয়। বইটি গত ৩১ ডিসেম্বর স্থানীয় ইউপি সদস্য শামসুল ইসলাম ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে বয়স্ক ভাতাভোগী আবদুস সাত্তারের হাতে তুলে দেয়। বই হাতে পেয়ে খুশি মনে ফিরে পরিবারের লোকজনকে জানালে তার মেয়ে বইটি খুলে দেখে জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০১৯  পর্যন্ত বয়স্ক ভাতার ৬ হাজার টাকা উত্তোলন করে করে নিয়েছ গত ৯ সেপ্টেম্বর।

এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভাতাভোগী ও তার পরিবারের লোকজন জানায় মেম্বারকে ৪ হাজার টাকা দেওয়ার পরও সে কিভাবে বই থেকে আরও ৬ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিল। 

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শামসুল ইসলাম টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বইটি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের এর কোটা থেকে দেওয়া হয়েছে সেখানে খরচ দিতেই এ টাকা  নিয়েছেন তিনি। বইটি পাস হওয়ার পর তৎকালীন চেয়ারম্যান এর পি এস মানিক গাজি আমার কাছে যেভাবে এই বইটি দিয়েছে আমি সেভাবেই তাদের দিয়েছি, কিন্তু এর মাঝে কারা এক বছরের টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে তা জানেন না তিনি।

কৃষি ব্যাংকের মাঝিরগাঁও বাজার শাখার ব্যবস্থাপক শেখ ফরিদ জানায়, ভাতা বিলির দিন ব্যাংকে কাজের খুব চাপ থাকে তাই ভাতা ভোগীদের সনাক্ত করা সম্ভব নয়। কিছু লোক ভাতা ভোগী অসুস্থ থাকার দোহাই দিয়ে ৪/৫ টা বইয়ের টাকা নিয়ে যায় সেখানে আমাদের কিছু করার থাকেনা।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাকে দায়ী করে বলেন ভাতাভোগীর টাকা অন্যকে কিভাবে দিল ব্যাংক? বইটি অফিস থেকে কে গ্রহণ করেছে তা নিশ্চিত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে বলেছি। দোষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments:

Post a Comment

Pages