ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটিতে ইসলামী আন্দোলনের দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Monday, December 23, 2019

ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটিতে ইসলামী আন্দোলনের দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পরিচিত ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দুই সিটিতেই মেয়র-প্রার্থী চূড়ান্ত করার তথ্য পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত দুই প্রার্থীর ছবিও ঘুরে বেড়াচ্ছে অনলাইনে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর সিটি কর্পোরেশনে অধ্যাক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আলহাজ্ব মুহাম্মাদ আব্দুর রহমানকে মেয়র-প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। গতকাল রবিবার (২২ ডিসেম্বর) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এই দুই প্রার্থীকে নির্বাচনের প্রাক-প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন দলের আমীর সৈয়দ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই।

দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুতই তাদের নাম ঘোষণা করবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ । দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে প্রার্থীদের সাথে প্রাথমিক আলাপ করার চেষ্টা করা হলেও পারা যায়নি। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ইসলামী আন্দোলন কাকে প্রার্থী করবে, তা ঠিক করে রাখা হয়েছিল চলতি মাসের শুরুতেই।

এর আগে, ২০১৫ সালের নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ছিলেন অধ্যাক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ছিলেন আলহাজ্ব আব্দুর রহমান । ওই নির্বাচন ইসলামী আন্দোলন বর্জন করার পরও অধ্যাক্ষ মাসউদ প্রায় ২০ হাজার ভোট পেয়েছিলেন আর আলহাজ্ব আব্দুর রহমান প্রায় ১৬ হাজার ভোট। ফলে, এই দুই সিটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মনোনয়নে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না বলেও দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের সবগুলো আসনে নির্বাচনী প্রার্থী দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলো এই সংগঠনটি। যদিও নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে তারা সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে এবং বিভিন্ন আসনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণাও এসেছিলো। এমনকি নির্বাচন পরবর্তি বিভিন্ন সভা-সমাবেশেও তারা সরকার ভোটচুরি করেছে দাবি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

এতকিছুর পরও এই সরকারের অধিনেই কেন ঢাকা সিটি নির্বাচনে তারা অংশ নিচ্ছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এই মুহুর্তে সরাসরি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি বরং তারা প্রার্থী ঘোষণার সময় এর কারণ উল্লেখ করবেন বলেও জানিয়েছেন। তাছাড়া জাতীয় নির্বাচনের পর ঢাকার সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচ দফায় ৪৬০টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু ওইসব নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দেয়নি। তখন এ দলের অন্যতম নীতিনির্ধারক অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেছিলেন, বর্তমান সরকারের অধীনের সকল নির্বাচন ইসলামী আন্দোলন প্রত্যাখান করতে চায়। কারণ এই সরকারের অধীনে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে জনগণ সে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে।

এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আধ্যাতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির ব্যাবস্থাপনায় পরিচালিত চরমোনাই বাৎসরিক অগ্রহায়নের মাহফিলে সংগঠনটির আমীর সারাদেশের ৪ হাজার দুইশ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এবং ৩৮ হাজার ওয়ার্ড মেম্বার নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, রবিবার (২২ ডিসেম্বর) ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারি দুই সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উভয় সিটির নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর, বাছাই ২ জানুয়ারি ও প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ জানুয়ারি।

No comments:

Post a Comment

Pages