মরহুম শাইখুল হাদীসকে জড়িয়ে 'তথ্য সন্ত্রাসের' প্রতিবাদে সর্বদলীয় সংবাদ সম্মেলন - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Wednesday, December 4, 2019

মরহুম শাইখুল হাদীসকে জড়িয়ে 'তথ্য সন্ত্রাসের' প্রতিবাদে সর্বদলীয় সংবাদ সম্মেলন

শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. হুজির প্রতিষ্ঠাতা আমীর বলে সংবাদ পরিবেশন করায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির  'তথ্য সন্ত্রাসের'বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দেশের শীর্ষ আলেম-উলামাগণ।
আজ (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে অবস্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জমিয়ত মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, খেলাফত আন্দোলনের আমীর আল্লামা মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, চরমোনাই পীরের দলের যুগ্ম মহাসচিব, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজজিলের আমীর মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী, তাফাফফুজে খতমে নবুয়্যাতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম প্রমুখ। 

অপরদিকে ঢাকায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাএ আন্দোলনের  সভা থেকে শায়খে চরমোনাই  মুফতি সৈয়দ মোঃ ফয়জুল করীম তীব্র নিন্দা ও  কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন,  শায়খুল হাদিসের নামে এই অপবাদ সহ্য করা হবে না।  ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমুচিত জবাব দিতে হবে।   ইসলাম পন্থীদের ধ্বংস করার ধারাবাহিক  যড়যন্ত্র থেকেই একেক সময় আলেমদের একেক ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। যড়যন্ত্রনারীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে একেক জনকে    একেক ট্যাগ দিয়ে সকল ইসলামী শক্তিকে শেষ করা। কখনও সেই স্বপ্ন পুরণ হতে দেওয়া হবে না।             

সংবাদ সম্মেলনে আল্লামা নূর হসাইন কাসেমীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও শাইখুল হাদিসপুত্র মাওলানা মাহফুজুল হক।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. এদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ও সম্মানীত একটি নাম। একজন প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ও বুযুর্গ আলেমেদ্বীন হিসেবে তিনি পরিচিত। অর্ধশতাব্দীরও অধিককাল তিনি বুখারি শরিফের অধ্যাপনা করেছেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। বাংলা ভাষায় তিনিই প্রথম বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাসহ পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেছেন। এর মাধ্যমে লক্ষ কোটি বাংলা ভাষী মুসলমান মহানবী সা. এর হাদিসের জ্ঞান লাভ করতে পেরেছে। ঢাকার উল্লেখযোগ্য পাচঁটি মাদরাসায় তিনি একই সাথে বুখারি শরিফের দরস দিয়েছেন। সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে আছে তার লক্ষ লক্ষ ছাত্র। শুধু তাই নয়, বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার হিসেবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে অধ্যাপনা করেছেন। জাতীয় ঈদগাহের খতিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরো বলা হয়, এদেশের রাজনীতি ও ইসলামি আন্দোলনের ময়দানে শাইখুল হাদীস রহ. এর ভূমিকা ও অবদান অসামান্য। ১৯৪৭ এর দেশ বিভাগের সময়ে থেকে শুরু করে শারীরিক সক্ষমতার শেষ সময় পর্যন্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যে কোনো ইস্যুতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ইসলাম বিরোধী ও দেশ বিরোধী যে কোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে এবং ইসলামের গৌরব প্রতিষ্ঠার সকল আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন শাইখুল হাদীস রহ.।

এতে আরো বলা হয়, ১৯৮৯ সালের ৮ ডিসেম্বর উলামায়ে কেরাম ও দ্বীনদার বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ১৯৯১ সালে সমমনা ইসলামি কয়েকটি দল নিয়ে ইসলামি ঐক্যজোট গঠন করেন এবং এর চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দল ও জোট একাধিকবার জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের উগ্র হিন্দু কর্তৃক বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হলে এর প্রতিবাদে শাইখুল হাদীস মিছিল, মিটিং ও আন্দোলনে সক্রিয় হন। ১৯৯৩ সালের ২-৪ জানুয়ারি বাবরি মসজিদ পুনঃনির্মাণের উদ্দেশে ঢাকা থেকে যশোর বেনাপোল হয়ে অযোধ্যা অভিমুখে লংমার্চে নেতৃত্ব দেন। উক্ত লংমার্চে পাঁচ লক্ষাধিক লোক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। শাইখুল হাদীস রহ. এর সেই লংমার্চ মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শাইখুল হাদীস শুধু এদেশের ধর্মীয় অঙ্গনই নয়, মূল ধারার রাজনীতিতে ছিলেন ব্যাপক পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ১৯৯৯ সনে তৎকালীন বিরোধীদল বিএনপিসহ চারদলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন শাইখুল হাদীস রহ.। এবং ঐক্যবদ্ধ নিবার্চন করে ক্ষমতায় এসেছিল চারদলীয় জোট সরকার। ক্ষমতার অন্যতম অংশীদার ছিল শাইখুল হাদীস রহ.-এর নেতৃত্বাধীন ইসলামি ঐক্যজোট।

বর্তমান সরকার কওমি মাদরাসা শিক্ষার যে সনদ প্রদান করেছে এই স্বীকৃতি আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন শাইখুল হাদীস রহ.। ২০০৬ এর ২৩ ডিসেম্বর কওমি সনদের স্বীকৃতিসহ ইসলামি আদর্শিক পাঁচ দফার ভিত্তিতে শাইখুল হাদীসের সাথে জোট করেছিল বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আল্লামা আজিজুল হক এর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাথে এক নির্বাচনী সমঝোতার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল শাইখুল হাদীস এর বাসভবনে এসে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, আল্লামা আজিজুল হক রহ. আমৃত্য বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস করেছেন। দলটি বাংলাদেশ সরকারের সকল নিয়ম কানুন মেনে নির্বাচন কমিশনের একটি নিবন্ধিত ইসলামি দল। যার নিবন্ধন নম্বর ৩৩। রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক কিংবা অন্য যে কোনো জায়গা থেকে আজ অবধি আল্লামা আজিজুল হক রহ. কিংবা তাঁর দলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার ন্যূনতম কোনো অভিযোগ ওঠেনি। এমন একজন জাতীয় নেতাকে হুজির প্রতিষ্ঠাতা পরিচয় দিয়ে গত ২৬ নভেম্বর’১৯ সংবাদ প্রচার করে যমুনা টিভি।

শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের মত প্রয়াত একজন শ্রেষ্ঠ আলেম ও জাতীয় নেতাকে হুজির প্রতিষ্ঠাতা আখ্যায়িত করে যমুনা টিভির এহেন প্রতিবেদন প্রচার চরম বিভ্রান্তিমূলক ও ধৃষ্টতার শামিল। বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষা ও রাজনীতির এই বাতিঘরকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা কেবল ঘৃণ্যই নয় বরং জলজ্যান্ত ইতিহাসকে বিকৃত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। আল্লামা আজিজুল হকের বিরুদ্ধে যমুনা টিভির এহেন মনগড়া অপপ্রচার দেশবাসীর মনে তীব্র ক্ষোভ, ঘৃণা, নিন্দা ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। দেশের সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম ও ইসলামপ্রিয় জনতা এহেন কর্মকান্ডকে ইসলাম ও জাতীয় সদেশের সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম ও ইসলামপ্রিয় জনতা এহেন কর্মকান্ডকে ইসলাম ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে আঘাত বলে মনে করছে। এটা দেশে বিদ্যমান গণমাধ্যম আইন ও সম্প্রচার নীতিমালাসহ, প্রচলিত ফৌজদারি আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আলোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সর্বজন শ্রদ্ধেয় শায়খুল হাদীসকে জঙ্গিনেতা আখ্যা দিয়ে মিথ্যা বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রচারের জন্য যমুনা টিভিকে অবশ্যই নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে অনতিবিলম্বে যমুনা টিভির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। যারা এই মিথ্যাচারের সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। অন্যথায় এদেশে তাওহিদি জনতা এর সুমচিত জবাব দেবে। শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. আমাদের সকলের মুরুব্বি। তার বণার্ঢ্য কর্ম জীবনের উপর এই আঘাত বরদাশত করা হবে না। যমুনা টিভি যদি তাদের কৃতকর্মের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা না চায়, সরকার যদি তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহন না করে তাহলে সর্বদলীয় ইসলামি নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে যমুনা টিভির বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফি সহসভাপতি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, মধুপুর পীর মাওলানা আব্দুল হালিম, সহসভাপতি, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া, , ড. ঈসা শাহেদী, চেয়ারম্যান, ইসলামি ঐক্য আন্দোলন, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, সহসভাপতি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মহাসচিব, নেজামে ইসলাম পার্টি,, মাওলানা শফিকুদ্দীন, যুগ্ম মহাসচিব, খেলাফত মজলিস, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব, খেলাফত মজলিস, জনাব আবুল খায়ের, মহাসচিব, মুসলিম লীগ, মাওলানা সাখাওয়াত রাজি, সাংগঠনিক সম্পাদক, ইসলামি ঐক্যজোট, মাওলানা মুহিউদ্দীন ইকরাম, যুগ্ম মহাসচিব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (মুফতী ওয়াক্কাস অংশ) ।

No comments:

Post a Comment

Pages