সাম্প্রদায়িক সুশীল সামাজকে চপেটাঘাত করলেন মুফতি ফয়জুল করিম |নুর আহমেদ সিদ্দিকী - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Monday, December 16, 2019

সাম্প্রদায়িক সুশীল সামাজকে চপেটাঘাত করলেন মুফতি ফয়জুল করিম |নুর আহমেদ সিদ্দিকী

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম যিনি খাঁটি দেশ প্রেমিক ও আলেম রাজনীতিক।একজন সচেতন,বিচক্ষণ, পন্ডিত, জাতীয় রাজনৈতিক নেতা।যার কথায় ও কাজে শতভাগ মিল পাওয়া যায়।জাতীয় ও অান্তর্জাতিক ইস্যুতে যার বক্তব্য পাওয়া যায় ভিন্ন বার্তা।যার প্রতিটি কথা যৌক্তিক ও প্রাসঙ্গিক। স্বাধীনতা পরবর্তী ইতিহাসে আলেম সমাজ ও ইসলামী রাজনৈতিক দল কে স্বাধীনতা বিরুধি হিসেবে চিত্রিত করেছে একদল সাম্প্রাদায়িক সুশীল সমাজ।যাদের কাজই ছিল আলেম ওলামাদের স্বাধীনতা বিরুধি হিসেবে দাঁড় করানো।আজীবন এই সব সুশীল সমাজ কওমী মাদরাসা ও অালেম সমাজকে স্বাধীনতা বিরুধি হিসেবে প্রমাণ করতে মরিয়া ছিল।এই সুশীল সমাজের সাম্প্রাদায়িক বক্তব্যকে সাদরে গ্রহণ করেছে বামপন্থীদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া গুলো।তারা রাজাকার হিসেবে চিত্রিত করেছে দাড়ি টুপি পাঞ্জাবি ওয়ালাদের।তাইতো রাজাকারদে কথা উঠলেই পত্রিকায় কার্টুন ছাপানো হয় দাড়ি টুপি দিয়ে।যুদ্ধের সময় কি সব রাজাকার দাড়ি টুপি ওয়ালা ছিল?উত্তরে হয়তো বলবেন সবাই দাড়ি টুপি ওয়ালা ছিলনা।তাহলে কেন মিডিয়া দাড়ি টুপি ওয়ালাদের রাজাকার হিসেবে চিত্রিত করেছে?? 
এদেশের শতকরা ৮০% মিডিয়া বামপন্থীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।তাই তারা বামপন্থী সুশীল সমাজের কথা ফলাও করে প্রচার করে।ইসলাম বিদ্বেষী  সাম্প্রাদায়িক সুশীল সমাজ ও তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া ইসলাম ও মুসলমানদের হেয় করার মানসে দাড়ি টুপি ওয়ালাদের জঙ্গি, রাজাকার ও স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে প্রমাণ করতে  স্বাধীনতা পরবর্তী ৪৮ বছর প্রচেষ্টা চালিয়েছে।টকশোতে বসে আলেমদের স্বাধীনতা বিরোধী বলে চিৎকার করেছে নিলজ্জের মত।

সাম্প্রদায়িক সুশীল সমাজ ও তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া আলেম সমাজকে স্বাধীনতা বিরোধী বলার অন্যতম কারণ ছিল কওমী মাদরাসায় জাতীয় দিবস গুলো পালন করেনা বলে।কোন আলেম স্বাধীনতা দিবস,বিজয় দিবস ও মাতৃভাষা দিবসে সেমিনার,মিছিল, মিটিং ও সমাবেশ করেনি।অথচ প্রকৃত দেশপ্রেমিক হলো আলেম সমাজ ও মুসলমানরা।কারণ তারা ঈমানের তাগিদেই দেশকে ভালবাসে।ইসলাম ধর্ম মানুষকে দেশপ্রেমের শিক্ষা দিয়েছে।আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ( সা) মুসলমানদের দেশপ্রেমের শিক্ষা দিয়েছেন।মক্কার কাফের মুশরিকরা যখন তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল তখন তিনি আল্লাহর নির্দেশে মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেন।তখন তিনি প্রিয় মাতৃভূমি মক্কার দিকে করুণভাবে তাকিয়ে বলেছিল, হে আমার স্বদেশ আমার স্বগোত্রীয় লোকেরা যদি ষড়যন্ত্র না করত তাহলে আমি কখনো তোমায় ছেড়ে যেতাম না।মহানবী (সা)
বলেছেন,দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।কোন ধর্ম দেশকে ধর্মের সাথে জড়ায়নি।ধর্ম আর দেশ অবিছেদ্দ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছে ইসলাম।সুতরাং মুসলমান মাত্রই ঈমানের খাতিরে দেশকে ভালবাসে।আলেম ওলামা ও প্রকৃত মুসলমানরা দেশ বাঁচাতে জীবন দিতে সদা প্রস্তুত।দেশ বাঁচাতে জীবন দেওয়াকে তারা ধর্মের বিধান মনে করে।সুতরাং অালেম সমাজ ও তৌহিদী জনতারাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক।বামপন্ত্রী ও সাম্প্রাদায়িক সুশীল সমাজ হলো চেতনা ব্যবসায়ি।তারা স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে দীর্ঘ ৪৮ বছর ব্যবসা করেছে।দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে অথচ তারা নীরব।দেশ ও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র  হলে প্রতিবাদ করে দেশপ্রেমিক আলেম সমাজ ও তৌহিদী জনতা।সেই সময় নীরব থাকে স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে ব্যবসা করা সাম্পদায়িক সুশীল সমাজ।সুশীল সমাজ আলেম সমাজকে স্বাধীনতা বিরোধী বলে যে চেতনার ব্যবসা করে আসছে আজ তা ভাটা পড়েছে একজন মুফতি ফয়জুল করিমের কারণে।তিনি জাতীয় দিবস গুলোতে সুশীল সমাজের মত প্রতীকী দেশপ্রেমের জানান দিচ্ছে।যে প্রতীকী দেশপ্রেমিক হয়ে সাম্প্রাদায়িক সুশীল সমাজ অালেম ওলামাদের স্বাধীনতা বিরোধী বলে অাখ্যা দিত মুফতি ফয়জুল করিম প্রতীকী দেশপ্রেমের জানান দিয়ে চেতনাবাজদের চপেটাঘাত করেছে।বলা যায় তাদের অস্ত্র দিয়ে তাদেরই অাঘাত করেছে মুফতি ফয়জুল করিম।

আলেম সমাজ সব সময় দেশপ্রেমিক। কিন্তু তারা চেতনাবাজদের মত প্রতীকী দেশপ্রেমিক সাজতে চাইনি।সেই সুযোগে সাম্পদায়িক সুশীল সমাজ ও তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া আলেম সমাজকে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে চিত্রিত করেছে।নাটক, সিনেমার মধ্যে রাজাকার,জঙ্গি ও স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে প্রমাণ করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হয়েছে দাড়ি টুপি ওয়ালাদের।সুশীল সমাজ ও তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম ধর্মকে হেয় ও আলেম ওলামাদের কোণঠাসা করে রাখা।বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্টের বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যত পঙ্গু করে দেওয়ার মানসে আলেম ওলামা, দাড়ি টুপি ওয়ালাদের দেশ বিরোধী ও স্বাধীনতা বিরোধী বলে অপপ্রচারে করে আসছে সাম্প্রদায়িক সুশীল সমাজ ও তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া।স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরে এসে সাম্প্রদায়িক  সুশীল সমাজকে চপেটাঘাত করেছেন একজন ফয়জুল করিম।
চেতনারবাজরা গালে যেন সজোরে থাপ্পড় দিলেন।তাঁর দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও অঙ্গ সংগঠন সমূহ জাতীয় দিবস গুলো ঝমকালো আয়োজনের মাধ্যমে পালন করছেন।স্বাধীনতা পরবর্তী যে কাজের কারণে আলেম সমাজকে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে অাখ্যায়িত করেছে সেই কাজটি করে মুফতি ফয়জুল করিম আলেম সমাজকে করেছে সম্মানিত। সাথে সাথে চেতনাবাজদের কে কষে থাপ্পড় দিলেন।সাম্প্রদায়িক সুশীল সমাজ ও তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার চেতনা ব্যবসায় লাল বাতি জ্বলতে আরম্ভ করছে।অালেম সমাজের উচিত ছিল জাতীয় দিবস গুলোতে আলেম সমাজের অবদান ও তাদের ত্যাগের ইতিহাস সমাবেশের মাধ্যমে জাতির কাছে তুলে ধরা।অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিক্রম হলেও কোন আলেম তা করতে পারেনি।স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরে এসে একজন বিজ্ঞ, রাজনীতিক,বিচক্ষণ ও পন্ডিত আলেম বুঝতে সক্ষম হয়েছেন কিভাবে সাম্প্রাদায়িক সুশীল সমাজ ও তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মুখে কুলুপ আটকে দেওয়া যায়।মুফতি ফয়জুল করিম সফল হয়েছেন।তাঁর দেখাদেখি বিভিন্ন অালেম উলামা স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে রাজপথে নামছেন।এই যেন সুশীল সমাজ ও চেতনাবাজদের  ঠান্ডা মাথায় থাপ্পড় দিলেন মুফতি ফয়জুল করিম।ভবিষ্যতে সকল জাতীয় দিবসে আলেম সমাজ মাঠে নামবে।ধীরে ধীরে সাম্প্রদায়িক  সুশীল সমাজ ও চেতনাবাজদের নিলর্জ্জ ও বিশ্রী চিৎকার বন্ধ হবে।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী,
কলামিষ্ট ও সাহিত্যিক

No comments:

Post a Comment

Pages