চৌহালীর ৩৫নং হাটাইল সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলন! - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Saturday, December 7, 2019

চৌহালীর ৩৫নং হাটাইল সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলন!

মোঃ ইমরান হোসেন ( আপন) 

৩৫নং হাটাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ তানজিনা খাতুন বিদ্যালয়ে হাজির না হয়ে গত দুই বছর ধরে নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তিনি নিজের সংসার জীবনের ব্যবস্তার জন্য যমুনা নদীর পূর্ব পারে অবস্থান করে নিয়মিত সরকারি বেতন ভাতা উত্তোলন করে নিচ্ছেন।

আর বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে। মোছাঃ তানজিনা খাতুন ২০১৭ সালের নভেম্বরে তার কর্মস্থলে যোগদান করে থাকেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি প্রায়ই সময় অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানান, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাত্র/ছাত্রী ও অভিভাবকরা।

সহকারী শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রতি মাসে একবার স্কুলে আসেন। এসে শিক্ষক হাজিরা খাতায় এক মাসের স্বাক্ষর একদিনে করে থাকেন বলে তিনি জানান।

প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিক্ষিকা মোছাঃ তানজিনা খাতুন প্রতি মাসে একবার স্কুলে আসেন।

অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি মোছঃ আয়েশা খাতুন জানান, গত দুই বছরের মধ্যেও সে তাকে কখনোই স্কুলে দেখেনি। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলে থাকেন, আমি শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রতি সপ্তাহে ২-৩ দিন স্কুলে আসি কিন্তু দুই বছরের মধ্যে আমি তাকে কখনোই স্কুলে দেখি নাই। 

অত্র স্কুলের সহ সভাপতি মোঃ কাইয়ুম মন্ডল জানান, শত চেষ্টা করেও তাকে নিয়োমিত স্কুলে আনতে পারিনি। তিনি আরও বলে থাকেন, তার পিতা মোঃ শরীফ বক্কার উপজেলা চৌহালী শিক্ষা সমিতির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তার ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে বেতন-ভাতা নিয়মিত নিয়ে যাচ্ছেন।

মোবাইল ফোনে শিক্ষিকা মোছাঃ তানজিলা খাতুন এর সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিক সাথে কথা বলতে রাজি হননি পরবর্তীতে তার পিতা মোঃ শরীফ বক্কার সাহেবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিভিন্ন ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে অনেকবার ফোন করার পরেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে যোগদানের পর থেকে তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে ক্লাস করাতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে স্থানীয়রা উপজেলা শিক্ষা অফিসে মৌখিক অভিযোগ করলেও মোছাঃ তানজিনা খাতুন এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবকরা জানান ৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ১ জন শিক্ষক অনুপস্থিত,আর প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন অফিশিয়াল কাজে ব্যস্ত থাকায় বিদ্যালয়ের ১১০জন শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।

একজন শিক্ষক  মাসের পর মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে কিভাবে বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন এ নিয়ে এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা মোছাঃ তানজিনা খাতুন উপজেলা শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ করে অবৈধ ভাবে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন।

No comments:

Post a Comment

Pages