খাদ্যে ভেজাল কারীদের গণপিটুনি দিতে হবে :রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Sunday, December 1, 2019

খাদ্যে ভেজাল কারীদের গণপিটুনি দিতে হবে :রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ

রাজশাহী- খাদ্যে ভেজাল দেয়া অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগে শুধু পকেট মারলেই গণপিটুনি দেয়া হতো, এখন খাদ্যে ভেজালকারী মানুষকেও গণপিটুনি দিতে হবে। মানুষকে এ পথ থেকে ফেরাতে হবে। নইলে জাতি হিসেবে আমরা পঙ্গু হয়ে যাবো।

রবিবার দুপুরে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) পঞ্চম সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আবদুল হামিদ বলেন, কচু ছাড়া সব কিছুতেই ফরমালিন, নির্ভেজাল খাবার দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে। খাদ্য ভেজালের কারণে ক্যান্সারসহ জটিল রোগ হচ্ছে। কিছু মানুষ দানব হয়ে যাচ্ছে। এ থেকে মানুষকে ফেরাতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষকে বোঝাতে হবে এসব করা ঠিক না। মানুষ যে নির্ভেজাল কিছু খাবে এটা এখন দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে। আমি ৮০-৮৫ দেশে ঘুরেছি। কিন্তু কোন দেশে খাদ্যে এরকম ভেজাল দেয় না। পৃথিবীর মধ্যে আমরাই একটি দেশ যারা এ ব্যাপারে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছি। মানুষকে সচেতন হতে হবে।

এ অশুভ কাজের বিরুদ্ধে গণমানুষকে সচেতন করতে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী হওয়ার ও প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান। সেই সাথে তিনি খাদ্যে ভেজালের অভিশাপ থেকে ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করতে রাজনীতিবিদ, শিক্ষক ও সচেতন জনগণকে এক সাথে কাজ করার তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ প্রকৌশলী সৃষ্টির কোন বিকল্প নেই। বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে দেশ যত বেশি উন্নত, সে দেশ তত বেশি সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। আমাদের বিপুল মানব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কারিগরী ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা কাঙি্ক্ষত মাত্রায় অর্জিত না হওয়ায় আমরা আশানুরূপভাবে এগোতে পারিনি। বর্তমানে সরকার কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। তাই বিশ্ববিদ্যালগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার জন্য র্দীঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান সুবিধা সমূহের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুণাগত উচ্চশিক্ষা প্রদানে ব্রতী হবে বলে আমার বিশ্বাস।

আবদুল হামিদ বলেন, সার্টিফিকেট দেওয়া এবং শিক্ষার প্রসারই শেষ কথা নয়। অমাাদের প্রয়োজন যুগোপযোগী শিক্ষা। বর্তমানে প্রতিনিয়ত যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তিত হচ্ছে। কাজেই আমাদেরও বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। বাস্তবভিত্তিক এবং প্রায়োগিক শিক্ষার উপর জোর দিতে হবে। গুণাগত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার সঙ্গে ল্যাবরেটরির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি গবেষণা ও হাতে-কলমে শিক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয়। এজন্য গবেষণা ও ল্যাবরেটরি কর্মের ওপর অধিক মনোনিবেশ করা জরুরি।

No comments:

Post a Comment

Pages