সারাদেশের ইউনিয়নে উঠবে হাতপাখার আওয়াজ:amar khobor - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Saturday, December 7, 2019

সারাদেশের ইউনিয়নে উঠবে হাতপাখার আওয়াজ:amar khobor

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছোট ছোট দল গুলোর জন্য লাভের হলেও ক্ষতিরমুখে আওয়ামী লীগ বিএনপির মত বড় দল গুলো। 
 যদিও নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের কারণে ফলাফল আওয়ামী লীগে ঘরে যায়।২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে আম জনতার কাছে আওয়ামী লীগ বিএনপির পর পরিচিত হয়ে উঠেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বিগত ঢাকা,চট্টগ্রাম রংপুর,গাজীপুর,রাজশাহী,খুলনা,বরিশল,সিলেট সিটি করর্পোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের দলীয় প্রতীকে অংশ নিয়ে চমক দেখিয়েছে।খুলনা,গাজীপুর রংপুর ঢাকা,চট্টগ্রাম সিটি করর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটের অংকে আওয়ামী লীগ বিএনপির পর তৃতীয় অবস্থানে ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।দলীয় প্রতীকে স্থানীয়  নির্বাচন আওয়ামী লীগ বিএনপি বেড়েছে কোন্দল।অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর দলীয় প্রতীকে তৃণমূলে পরিচিত ছিল না।দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনের কারণের দলটির প্রতীক তৃণমূলে পরিচিত হয়ে উঠছে।বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনশ আসনে প্রার্থী দিয়ে দলটি তাদের সক্ষমতা জাতির কাছে স্পষ্ট ক্যরেছিল।স্বাধীনতা পরবর্তী কোন ইসলামী দল জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রতিদন্ধিতা করতে পারেনি যা ইসলামী আন্দোলন পেরেছে।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শিক্ষার দিক থেকে এগিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা।ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচিত হয়েছিল আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রিত ও নৈশভোটের কারণে।সুষ্টু নির্বাচন হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বেশ কিছু আসনের পাশাপাশি ভোট বিপ্লব ঘটত।
বিগত চরমোনাইর অগ্রহায়ণের মাহফিল থেকে দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।এরপর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্নমহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান  ৪২০০ ইউনিয়ন ও ৩৮০০০ ওয়ার্ডে নির্বাচনের কথা জানান।দলীয় প্রতীকে যদি ৪২০০ ইউনিয়নে অংশগ্রহণ করে তাহলে আওয়ামী লীগ বিএনপির মত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও গণমানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠবে।পরিচিত হয়ে উঠবে তাদের দলীয় প্রতীক হাতপাখা। তৃণমূলে বাড়বে জনপ্রিয়তা ও সদস্য।কোন দল নির্বাচন থেকে দূরে থাকলে দলীয় নেতা কর্মীরা নিস্ক্রিয় হযে পড়ে।একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগ কতৃক গঠিত নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় নেতা কর্মীদের মনোভাব বিবেচনা করে পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪২০০ ইউনিয়ন ও ৩৮০০০ ওয়ার্ডের প্রতিদন্ধিতা করবে দলটির প্রার্থীরা।ইতোমধ্যে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী চুড়ান্তের কথা ভাবছে দলটি।যুগ্নমহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছে, নির্বাচনে শিক্ষিত ও তরুণ প্রার্থীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।সাথে সাথে প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজও বিবেচনায় থাকবে।আগামী জানুয়ারিতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নিবে কিনা এখনো জানা যায়নি।আমার মতে সিটি নির্বাচনেও অংশ নিলে দলটি জন্য কল্যাণ হবে বলে মনে করছি।

আগামী সব ইউপি ও ওয়ার্ডে যদি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অংশ নেয় তাহলে তৃণমূলে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করবে দলটি।নির্বাচনে কয়টি ইউপিতে তারা জিততে পারবে তা বড় কথা নয়।বড় কথা হলো তারা তৃণমূলে দলকে পরিচিত করতে পারছে কিনা। সব ইউপি ও ওয়ার্ড নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দলটি তৃণমূলে পরিচিত হবে,বাড়বে দলীয় কর্মীর সংখ্যা ও ভোটার।যা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কে বড় সহায়াতা দিবে।বলা যায় ইউপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলটি মাঠ তৈরি করছে যাতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরণের সফলতা আসে।আওয়ামী লীগ বিএনপির পর সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দলটি।অনুগত কর্মী,সুশৃঙ্খল ও যুগোপযোগী কর্মসূচির কারণে দলটি তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।জ্যামিতিক হারে বাড়ছে দলের নেতা কর্মীর সংখ্যা।ইউপি নির্বাচনে যথাযথ কাজ করতে পারলে দলটির জন্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় সুফল দিবে।জাতীয় পার্টির এরশাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এক প্রকার মারা গেছে।কোণঠাসা জামায়াত ও বিএনপি।এই কঠিন মুহুর্তে এগিয়ে যাচ্ছে দলটি।অহিংস আন্দোলন সংগ্রাম আর শান্তিপ্রিয় নেতা কর্মীদের কারণে দলটি এখনো ভাঙ্গনের মুখে পড়েনি।স্বাধীনতা পরবর্তী সুশৃঙ্খল  দল হিসেবে বিবেচনা করলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নাম আসবে তালিকার শীর্ষে।বর্তমান রাজনীতিতে একটি ভিন্ন ধারা সৃষ্টিকরণে সফল এই দলটি।বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণে দলটি সমৃদ্ধ হচ্ছে।অদূরভবিষ্যতে দলটি আওয়ামী লীগ বিএনপির মত তৃণমূলে আসন গেড়ে বসতে পারে।হয়ে উঠতে পারে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল।জয় করতে পারে গণমানুষের হৃদয়।

লেখকঃ  নুর আহমদ সিদ্দিকী
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট

No comments:

Post a Comment

Pages