বাঙ্গালী বক্তার ইংরেজি ফতোয়া |amar khobor - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Wednesday, December 25, 2019

বাঙ্গালী বক্তার ইংরেজি ফতোয়া |amar khobor

হেড লাইন দেখে অনেকে ভিন্ন কিছু মনে করতে পারেন কিন্তু বিষয়টি একেবারে পানির মত সহজ।মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী একজন জনপ্রিয় তরুণ বক্তা।যার বয়ানে লাখ মানুষের সমাগম ঘটে।এটা আশা জাগানিয়া দৃশ্য বলা যায়।বিভিন্ন স্থানে তাঁর মাহফিল অযৌক্তিকভাবে প্রশাসন বন্দ করে দিয়েছে।এই অন্যায়ের প্রতিবাদ আমি নিজেও করেছি।তিনি মোটামুটি জামায়াতের স্বপক্ষের লোক সেটা কারো অজানা নয়।তা স্বর্থেও আমি তাকে ভালোবাসতাম দুটি কারণে।
( ১) গোছালো বক্তব্য
(২) তাঁর বয়ানে যুব সমাজ আকৃষ্ট হচ্ছে।যদি আকৃষ্ট হয়ে নামাজি হয় তাতে লাভ হচ্ছে

তাঁর কথায় যদি মানুষ ইসলামের প্রতি ধাবিত হয় তাহলে ক্ষতি কিসে? যে ইসলামের সামান্যতমও লাভ করবে সেই আমার বন্ধু।এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমি তাঁকে হৃদয়ে ঠাঁই দিয়েছিলাম।কিন্তু নানা বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন তিনি।মীমাংসিত বিষয়েে তিনি ফতোয়া দিয়ে নিজের ক্যারিয়ার ধ্বংস করছে নিজেই।ওয়াজের ময়দানে তিনি এখনো বাচ্চা ছেলে।মাত্র হাটা শিখেছে। পাড়ি দিতে হবে অনেক  পথ।এরই মধ্যে তিনি বিতর্কের জন্ম দিয়ে মুখ থুবড়ে পড়বে না তার কোন গ্যারান্টি আছে কি??

তিনি বয়ানে ইংরেজি বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।আরে বাবা ইংরেজি শিখা আর ইংরেজি বলা অপরাধ বা দোষের নয় বরং ইংরেজ হওয়াটাই অপরাধ ও দোষের।তিনি ফতোয়া দিলেন মেয়েরা মুখ খোলা রেখে ব্যবসা করতে পারবেন এবং প্রফেজক্টরের মাধ্যমে বক্তাকে দেখে দেখে বয়ান শুনতে পারবেন যা স্ববিরোধী ফতোয়া।জামায়াতের মুখপাত্র মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী নিজেও এই ফতোয়ার বিরুধী।কারণ সাঈদি সাহেবের পূর্বের ফতোয়া এই ফতোয়ার সাথে মিলেনা।পৃথিবীতে কোন নারীই যদি পর্দা না করে তবুও পর্দা ফরজ।বড় বড় মুফতিরা বহু বছর আগ থেকে এটা নাজায়েজ ফতোয়া দিয়েছে।এটা ইসলামের অাবশ্যকীয় বিধান যা অস্বীকার করলে ঈমান থাকবেনা তা বুঝতে কোরআন হাদিসের দলিল লাগেনা।কারণ এটা মীমাংসিত বিষয়।তিনি ইংরেজ মার্কা ফতোয়া দিয়ে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন যা বয়ানের ময়দানে সুফল বয়ে আনবে বলে মনে হয়না।তাঁর উচিত হবে জনতার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করা ও ভুল স্বীকার করে নেওয়া।

ইংরেজি শিখে ইংরেজ ভাষাভাষীদের মধ্যে ইসলাম ধর্মের প্রচার করতে পারলে নুরুন আলা নুর।কিন্তু নিরেট মডারেট সাজার বা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্যে বাঙালী বয়ানের মাঠে ইংরেজি বলে  মানুষ হেদায়াত হবেনা।তাঁর বয়ানে ইংরেজিে পরিমাণ বেশি হয়ে যায়।আমি বলছি বাংলাদেশের বয়ানের ক্ষেত্রে ইংরেজি না বলে সহজ বাংলায় বলুন।বয়ান শুনতে আসা শতকরা ৮০% মানুষ ইংরেজি বুঝেনা।প্রশ্ন হতে পারে আরবি ভাষা কি সবাই বুঝে?? আরবি ভাষা সবাই না বুঝলেও আরবি ভাষায় যেহেতু কোরআন নাজিল হয়েছে সেহেতু আরবি ভাষার প্রতি সর্বমহলের শ্রদ্ধাবোধ থাকে।বয়ান হবে কোরআন সুন্নাহর অালোকে।এতে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ইংরেজি বললে ইংরেজির প্রতি মানুষ বিপরীত শ্রদ্ধাশীল হবে যা সুখকর নয়।ইংরেজি না শিখতে বলছিনা।আরবিতে বললে এবং আরবি ভাষা শিখার প্রতি আহবান করলে কোরআন শিখার প্রতি মানুষ আগ্রহী হবে।আপনি ইংরেজি বলুন তা দোষের  নয় কিন্তু  ইংরেজ হওয়া দোষের। সুতরাং বাঙ্গালী বক্তা হয়ে ইংরেজ মার্কা ফতোয়া দিতে যাবেন না।দিতে গেলে বয়ানের ময়দানে মুখ থুবড়ে পড়বেন।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages