ঈদে মিলাদুন্নবী বনাম অতিরঞ্জিত অানুষ্ঠানিকতা - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Monday, November 4, 2019

ঈদে মিলাদুন্নবী বনাম অতিরঞ্জিত অানুষ্ঠানিকতা


#ঐতিহাসিকদের মতে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রাণের স্পন্দন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহা মানব হযরত মুহাম্মদ (সা) এর জন্ম ৫৭০ ঈসায়ী সনে মক্কার কুরাইশ বংশে।তিনি এই এই পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন ১২ রবিউল আওয়াল মাসে।তার জন্ম তারিখ ১২ রবিউল আওয়াল তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও তিনি যে ১২ রবিউল আওয়াল এই মাসে পৃথিবীতে ছেড়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেলেন তা নিয়ে কোন মতভেদ নেই।কিন্তু আমাদের দেশে একটি সম্প্রদায় হযরত মুহাম্মদ (সা) এর জন্ম দিন নিয়ে অতিরঞ্জিত ও বাড়াবাড়ি শুরু করেছে যা আদৌ ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য সুখকর নয়।রবিউল আওয়াল মাসের ১২ তারিখ নবীর জন্ম দিনের কারণে জশনে জুলুস করা হয়। কিন্তু নবী একই দিনে মৃত্যুবরণ করেছে যা ঐতিহাসিকরা একমত।মৃত্যুর কারণে শোক দিবস পালন করা হয়না কেন?? এই ঈদে মিলাদুন্নবী সাহাবায়ে কেরাম পালন করেছে এমন কোন প্রমাণ আছে কি??
#সুন্নিদাবিদার ভাইয়েরা প্রতি বছর ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করে। ব্যানারে লেখা থাকে সকল ঈদের সেরা ঈদ - ঈদে মিলাদুন্নবী। আচ্ছা প্রশ্ন হল ঈদুল আযাহা ও ঈদুল ফিতরের ব্যপারে হাদিস আছে কিন্তু ঈদে মিলাদুন্নবীর ব্যাপারে কোন হাদিস আছে কি?? ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযাহার ঈদে দুই রাকাত করে নামাজ পড়তে হয়,খুতবা দিতে হয় কিন্তু সকল ঈদের বড় ঈদ মিলাদুন্নবীতে নামাজ ও খুতবা নেই কেন?? চট্টগ্রাম শহরে সারা বছর ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হয়।কোন বাড়ি উদ্বোধনের সময় কল্যাণ কামনায় মিলাদুন্নবীর আয়োজন করা,ছেলের পরীক্ষার জন্য মিলাদুন্নবী, ভাল কাজের নিয়তে মিলাদুন্নবী পড়ানো হয়।কিন্তু কেন এসব?? মিলাদুন্নবী মানে তো নবীর জন্মদিন। তাহলে সারা বছর কি নবীর জন্মদিন?? এটা যাস্ট সরলমনা মুসলমানদের ধোকা নয় কি?? নাকি তারা মিলাদুন্নবী শব্দটির অর্থই জানেনা।এক সময় বোকা টাইপের এক ছেলে বইতে একটি নতুন শব্দ পেয়েছে যে শব্দটির অর্থ সে জাননা।একদিন চিন্তা করল নতুন শব্দটি দিয়ে বাবাকে চিঠি লিখবে। যেমন কথা তেমন কাজ।শব্দটি হল - কতিপয়।

প্রিয় - কতিপয় বাবা

#আশা করি মহান কতিপয় প্রভুর দোয়ায় ভাল আছেন।গতকাল আমার কতিপয় বার্ষিক পরীক্ষা সমাপ্ত হয়েছে।কতিপয় টাকার প্রয়োজন।শীঘ্রই যদি কতিপয় টাকা পাঠিয়ে দিতে পারেন তাহলে আমি কতিপয় দেরি না করে বাড়ি ফিরব।

ইতি তোমার কতিপয়
সাজিদ
চিঠি পড়ে বাবা বেহুশ হওয়ার উপক্রম।এই হল শব্দের অর্থ না বুঝে প্রয়োগের অবস্থা।আমার মনে হয় সুন্নি দাবিদার ভাইয়েরা মিলাদুন্নবী শব্দটির অর্থ সম্পর্কে অবগত নয়।তা না হলে সারা বছর কেন ঈদে মিলাদুন্নবী??  যদি বলেন অবগত, তাহলে বলব এটা ইসলামের বিকৃতি।

#সুন্নি দাবিদার ভাইয়েরা নবীর প্রেমে পাগল হয় শুধু মাত্র ১২ রবিউল আওয়াল আসলে।নবীর প্রেম কি শুধু ১২ রবিউল আওয়াল কেন্দ্রিক?? তাহলে কেন নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষীদের প্রতিরোধে আপনাদের মাঠে দেখা যায়না?? তাসলিমা নাসরিন ইসলাম নিয়ে কটুক্তি করে সুন্নি দাবিদার ভাইয়েরা নিরব থাকে, সালমান রুশদি,নাস্তিক ব্লগারগন নবীকে গালি দেয় তারা নিরব,সাবেক মন্ত্রী লতিব কাজ্জাবী হজ্ব ও নবী নিয়ে কটুক্তি করে তখনও তারা নিরব।সাম্প্রতিক ভোলার বোরহানদ্দীনে নবীকে নিয়ে হিন্দু যুবক কটুক্তি করেছে তখনও তাদের প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি।যাকে এত ভালবাসেন,যার প্রেমে উতলা হয়ে ১২ রবিউল আওয়াল শহরে শহরে জশনে জুলুস করেন সেই নবীকে গালি দিলে কেন তার প্রতিবাদ করতে পারেন না?? তাহলে কি নবী প্রেম শুধু বিরানি আর জিলাপি কেন্দ্রিক??কাউকে ভালবাসলে তাকে কেউ গালি দিলে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা উচিত ছিল।এটা ঈমানের প্রশ্ন।নবীকে যারা গালি দেয় তাদের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ, আন্দোলন সংগ্রাম করেনা তারা কিভাবে আশেকে রাসূল হয়?? আশেকে রাসূল তো কওমী মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকরা,আশেকে রাসূল তো ভোলায় যারা প্রাণ দিল তারা।ইসলামের বিকৃতি আর কত করবেন?দয়া করে এই সব অতিরঞ্জিত অানুষ্ঠানিকতা বন্ধ করুন।এই সব  বন্ধ  করা সময়ের দাবি।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী

No comments:

Post a Comment

Pages