তাসলিমা নাসরিনের বিয়ে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য নারী স্বাধীনতা বিরুধী - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Sunday, November 24, 2019

তাসলিমা নাসরিনের বিয়ে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য নারী স্বাধীনতা বিরুধী

নুর আহমদ সিদ্দিকী 

তাসলিমা নাসরিন একজন নির্বাসিত ধর্মদ্রোহী তথা ইসলাম বিদ্বেষী লেখিকা।যার লেখার উপদানই হলো ইসলাম বিদ্বেষ চর্চা।ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থানের জন্য তিনি দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন।এখনো নির্বাসনে পাশের রাষ্ট্র ভারতে।বোরকার বিরুদ্ধে অবস্থান করলেও রাতের আধারে সেই বোরকা পরিধান করে ব্রিটেনে পালিয়েছিল।ইসলামপন্থীদের কাছে তিনি নাস্তিক হিসেবে পরিচিত হলেও আমি তাকে নাস্তিক মনে করিনা। তার লেখনি বিশ্লেষণ করে দেখলাম তিনি ইসলাম ধর্ম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের বিরুদ্ধে বলেনি।ঘুরে ফিরে ইসলাম ধর্মের বিধি বিধান নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ লেখালেখিই ছিল তাঁর প্রাত্যহিক রুটিন।"লজ্জা " নামক গ্রন্থে তিনি যে ইসলাম বিদ্বেষী তার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।গেল অক্টোবরে তিনি হিন্দুদের পূঁজা তথা শিবলিঙ্গে পানি ঢেলেছে।সে ছবি নিজ ফেইসবুক একাউন্টে শেয়ার করেছে।নাস্তিক তো তাকেই বলে,যে কোন ধর্ম কর্ম মানে না,প্রভু মানেনা।তাসলিমা নাসরিন যদি নাস্তিকই হয় তাহলে তিনি শিবলিঙ্গে কেন পানি ঢালতে যাবে?? আসলে তাসলিমা নাসরিন নাস্তিক নয় ইসলাম বিদ্বেষী। তিনি ইসলামের বিরুধিতা করে অপরপক্ষে হিন্দুত্ববাদ চর্চা করে।সম্প্রতি তিনি অযোধ্যার বাবরী মসজিদের রায় নিয়ে বলেছেন,তিনি বিচারপতি হলে মসজিদকে  স্কুল বানিয়ে দিতেন।কয়েকদিন পূর্বে মন্তব্য করেছেন তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলে মদ,জুয়া ও ক্যাসিনো কে বৈধতা দিতেন।
গত ২১/১১/১৯ তাসলিমা বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় " বিয়ে প্রথা কি ভবিষ্যতে উঠে যাবে? " শিরোনামের কলামে তিনি বিয়েকে অনর্থক ও পরধীনতার শিকল বলে মন্তব্য করেছেন।কয়েক দিন আগে কথা সাহিত্যিক হুমায়ন আহমদ এর স্ত্রীর বিয়ে নিয়ে অাপত্তি তুলে।তিনি বলেন,অবাধ যৌন মিলন আর সন্তান লাভের জন্য বিয়ের দরকার নেই।মানুষ ছাড়া কোন প্রাণীর মধ্যে বিয়ের প্রচলন না থাকলেও তাদের মধ্যে ভালবাসা ও সুসম্পর্কের কোন ঘাটতি থাকেনা।অথচ বিয়ে করার পর পরকীয়া আর তালাক দিয়ে  সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে ।তাঁর মতে,বিয়ে নারীদের গৃহবন্দী ও পরাধীন করে রাখে।পুরুষতান্ত্রিকতা পরিহার করতে বিয়ে প্রথাকে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন নতুন প্রজন্মকে।অ্যালবাট্রোস,রাজহাঁস, কালো শকুন,ফ্রেঞ্চ এঞ্জরলফিস,ছাইরঙা নেকড়ে,প্রেইরি, ভোল এরা বিয়ে না করেও যদি ভালবাসার মধ্যে কমতি না থাকে তাহলে মানুষ কেন পারবেনা বিয়ে না করে একে অপরকে ভালবাসতে?? তার মতে বিয়ে হলো নারীকে গৃহবন্দী করে রাখার কৌশল মাত্র।গ্লোরিয়া স্টাইনেম এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন,সে - ই স্বাধীন যে মেয়ে বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক করে,আর বিয়ের পরে চাকরি।তাসলিমার যুক্তি মতে তিনি,বিয়ে প্রথাকে চরম ঘৃণা করেন।তিনি ইনিয়ে বিনিয়ে বলতে চেয়েছে বিয়ে করা সভ্য সমাজের কাজ নয়।প্রকৃতপক্ষে বিয়ে হলো সভ্য সমাজের কাছে একটি পবিত্র সম্পর্ক বা সুদৃঢ় বন্ধন যা হাজার বছর ধরে সভ্য সমাজে প্রচলিত।এটাই বিধাতার বিধান।

বিয়ের বিরুদ্ধে তাসলিমা নাসরিনের অভিযোগ অনুযেগের প্রধান কারণ হলো ইতরামি,অসভ্যতামির নামান্তর। তিনি মানুষ হয়েও যখন পশুর মত বিয়েহীন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তাহলে বলব তিনি পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট কোরআনে বর্ণিত চতুষ্পদী জানোয়ার।ইসলাম ধর্মে বিবাহপূর্ব সকল সম্পর্ক  অবৈধ।ধর্ম মানুষকে সভ্যতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়।ধর্মহীন মানুষ পশুতুল্য। প্রাণী বিয়ে করেনা বলে মানুষকেও বিয়ে না করতে উৎসাহিত করাও জন্তু জানোয়ারে চরিত্রকে বরণ করে নেওয়ার নামান্তর। নিজে তো ধ্বংসের পথে তাই সভ্যদের তার মত অসভ্য করে তুলার নিরন্তন প্রচেষ্টা করছেন তিনি।এই যেন লেজ কাটা শিয়ালের  ভূমিকায় ।নিজের লেজ কাটা পড়ায় অন্যদের লেজ কাটার মত অসভ্য পরামর্শ এ প্রজন্ম মানবেনা বরং ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করবে।বিয়ে প্রথা প্রত্যেক ধর্মে স্বীকৃত একটি পবিত্র সামাজিক বন্ধনের নাম যা কখনো অচল হওয়ার নয়।এটা শুধু সামাজিক বন্ধনই নয় বরং একটি ধর্মীয় বিধানও বটে।ইসলাম নারীকে যতটা স্বাধীনতা দিয়েছে তা কোন ধর্ম দিতে পারেনি।বিয়ে নারীর সম্মান আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।সুতরাং বিয়ে প্রথার বিরুধিতা শুধু ধর্মের বিরুধিতা নয় এটা সামাজিক,মানবিক ও নারী স্বাধীনতার বিরুধিতাও বটে।তাসলিমা নাসরিনের মত ধর্মদ্রোহী, অসভ্য, বর্বর ও চতুষ্পদী প্রাণীর কথায় কেউ বিবাহ প্রথা কে অমান্য করতে পারেনা।এরা সমাজ,ধর্ম ও নারী স্বাধীনতা জন্য চরম হুমকি। 

লেখকঃ কলামিষ্ট ও সাহিত্যিক

No comments:

Post a Comment

Pages