সর্বমহলে প্রশংসিত মুফতি ফয়জুল করিম || নুর আহমেদ সিদ্দিকী - amarkhobor24.com

শিরোনাম

Home Top Ad


Sunday, November 24, 2019

সর্বমহলে প্রশংসিত মুফতি ফয়জুল করিম || নুর আহমেদ সিদ্দিকী

নুর আহমদ সিদ্দিকী

একঃ
রাজনীতিকদের অনেক গুলো বৈশিষ্ট্য থাকে।
তার মধ্যে অন্যতম হল উদারতা।
রাজনীতিকরা উদার হয়।বাংলাদেশের প্রতিহিংসার রাজনৈতিক অঙ্গনে উদার মানসিকতা লালন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।দলটির নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম এর উদারতা রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রসংশিত হচ্ছে বার বার।স্বাধীনতা পরবর্তী উদার মানসিকতার  এমন রাজনৈতিক নেতা খুব কমই জন্ম নিয়েছে।এমন মানুষ  হয়তো শতাব্দীতে বেশি হয়না।

নির্মোহ,সদালাপী, মিষ্টভাষী মুফতি ফয়জুল করিম সহজেই যে কারো হৃদয় জয় করে নিতে পারে। তাঁকে তিরস্কার করে এমন লোকও তার সান্নিধ্যে এসে পাল্টে যায়।নিজেকেই তিরস্কার করে  অতীতের ভুলের জন্যে।সমালোচকের সমালোচনায় বিচলিত  হয় না বরং নিজের ভুল থাকলে শোধরে নেয়।দলীয় নেতা কর্মীর বাইরে সব চেয়ে জনপ্রিয় ইসলামী রাজনীতিক হলেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম শায়েখে চরমোনাই। ভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের কাছেও তিনি সমান জনপ্রিয়।রাজনৈতিক ময়দানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বীরের বেশে।ইসলাম,দেশ মানবতা ও স্বাধীনতার পক্ষে তার ভাষণ বাতিলের মসনদ নড়বড়ে হয়ে যায়।অগ্নিঝরা ভাষণে কেঁপে উঠে ধর্মদ্রোহিদের কলিজা।

দুইঃ
দলীয় সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে কাজ করেন তিনি।চলতি বছরের  ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি উদার হওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।সাথে সাথে অসুস্থ খালেদা জিয়ার মুক্তিও দাবি করেন।বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুর পর যে বক্তব্য তিনি দিয়েছেন তা বিএনপির কোন নেতাও দিতে পারেনি। তিনি শুধু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নয় বিএনপির বিরুদ্ধেও কঠিন ভাষণ দিয়েছেন।তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে  কিন্তু মজলুমের পক্ষে।গত ২৮অক্টোবর ১৯ জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় দেওয়া স্বাক্ষাতকারটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় গেলে শুধু দলের নির্বাচিতদের নিয়ে দেশ পরিচালনা না করে সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে দেশ পরিচালনা করবেন।স্বাধীনতা পরবর্তী কোন দলের নেতা এমন উদারতার পরিচয় দিতে পারেনি মুফতি ফয়জুল করিম ছাড়া।

তিনঃ
রাজনীতিক হিসেবে তিনি অত্যন্ত ভদ্র।ব্যক্তিগতভাবে তিনি কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করে কথা বলে না।গত বুধবার ইসলামী যুব আন্দোলনের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয় ঢাকার বিএম মিলনায়তনে। সেই অনুষ্টানে যাদের দাওয়াত করা হয়েছে তারা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও মুফতি ফয়জুল করিম এর কঠিন সমালোচক।অনুষ্টানের প্রধান অতিথি ছিলেন মুফতি ফয়জুল করিম।নিজ আসন ছেড়ে তিনি শুরুতে সবার সাথে মুসাফা করেন।আগত সবার সমালোচনা ও দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ধর্য্যসহকারে শুনেন।এরপর ঝানু রাজনীতিকের ন্যায় এক এক করে উত্তর দেন।অনুষ্টানে অংশগ্রহণ করা এক ভাইয়ের নাম মাওলানা মুহি উদ্দীন কাসেমী যিনি মুফতি ফয়জুল করিমের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছেন।তিনি মুফতি ফয়জুল করিমের কঠিন সমালোচক ছিলেন।অনুষ্টানে মুফতি ফয়জুল করিম তাঁকে বলেন,আপনি আমার সমালোচনা করে বড়ই উপকার করছেন।আপনার কপালে চুমু খাওয়া উচিত বলে কপালে চুমু খেলেন।মুহি উদ্দীন কাসেমী ফেইসবুক ফেইজে দেওয়া অনুভূতিটা ছিল ঠিক এমনই।যারা ঐ অনুষ্টানে অংশ নিয়েছেন তাদের প্রত্যেকেই মুফতি ফয়জুল করিমের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগা মাধ্যম ফেইসবুকেও তাদের অনুভূতি শেয়ার করেছেন।এই যেন এক জাদুকরী মানব।একজন প্রজ্ঞাবান রাজনীতিক।যার বয়ানে কেঁদে উঠে হাজারো পাপিষ্টের হৃদয়।যার ভাষণে কেঁপে উঠে জালিমের মসনদ তিনি এটাতা উদার হতে পারে সান্নিধ্যে না গেলে বুঝা যাবেনা।আমার বিশ্বাস যারা অবর্তমানে তার সমালোচনা করে তারা যদি তাঁর সান্নিধ্যে যায় তাহলে ভুল ভেঙ্গে যাবে।হিংসা,প্রতিহিংসার রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্মোহ ও উদার রাজনীতিকের নাম মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম শায়েখে চরমোনাই।

লেখকঃ কলিমষ্ট ও সাহিত্যিক

No comments:

Post a Comment

Pages